মেরাজের রাতে সপ্তাকাশ ভ্রমণের সময় আল্লাহ তায়ালা প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। হযরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে রাসূলুল্লাহ (সা.) বারবার ফিরে গিয়ে কমানোর আরজি জানান, শেষে ৫ ওয়াক্তে নেমে আসে।
এগুলো পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু সওয়াবে পঞ্চাশ — কারণ আমার কথার হেরফের হয় না।
— সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
সুফি সাধকদের কাছে নামাজের এক বিশেষ উচ্চতর স্তর আছে যাকে বলা হয় "দায়েমি সালাত" — অন্তরের অবিরাম ইবাদত।
কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্তের সময়সূচি
আল্লাহ বলেন — "নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)। নিচে প্রতিটি নামাজের সময়ের কুরআনি ভিত্তি দেখুন।
| নামাজ | সময়সীমা | কুরআনের ভিত্তি |
|---|---|---|
| ফজর | সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত | "ক্বুরআনাল ফজর" — সূরা আল-ইসরা: ৭৮; নামসহ উল্লেখ সূরা আন-নূর: ৫৮ |
| যোহর | সূর্য হেলে পড়ার (দুলুক) পর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত | "লিদুলুকিশ শামস" — সূরা আল-ইসরা: ৭৮ (অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে যোহরের সূচনা) |
| আসর | বস্তুর ছায়া তার সমান হওয়া থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত | সূরা আল-বাকারা: ২৩৮-এ উল্লেখিত "সালাতুল উসতা" (মধ্যম নামাজ) |
| মাগরিব | সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিম আকাশের লালিমা মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত | "ইলা গাসাকিল লাইল" (রাতের আঁধার) — সূরা আল-ইসরা: ৭৮; "দিনের দুই প্রান্ত" — সূরা হুদ: ১১৪ |
| ইশা | রাতের আঁধার সম্পূর্ণ হওয়ার পর থেকে মধ্যরাত/ফজরের পূর্ব পর্যন্ত | "গাসাকিল লাইল" (রাতের সম্পূর্ণ আঁধার) — সূরা আল-ইসরা: ৭৮; "রাতের কিছু অংশ" — সূরা হুদ: ১১৪ |
শিয়া মুসলিমদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রামাণিক ধ্রুপদী তাফসীরগ্রন্থ "মাজমাউল বায়ান" (আল্লামা শায়খ তাবারসি রচিত, ৬ষ্ঠ হিজরি শতক) — এত সমাদৃত যে বহু শতাব্দী এর সমকক্ষ নতুন কোনো শিয়া তাফসীর রচিত হয়নি, এমনকি বহু সুন্নি আলেমও একে সম্মানের সাথে উদ্ধৃত করেন।
সূরা আল-ইসরার ৭৮ নং আয়াত ব্যাখ্যায় শিয়া তাফসীরের একটি সুপরিচিত দৃষ্টিভঙ্গি হলো — আয়াতটি মূলত তিনটি সময়কাল নির্দেশ করে: (১) সূর্য হেলে পড়ার সময় — যা যোহর ও আসর উভয়ের জন্য অভিন্ন সময়কাল, (২) সন্ধ্যার আঁধার নামার সময় — যা মাগরিব ও ইশা উভয়ের জন্য অভিন্ন, এবং (৩) ফজরের সময় আলাদাভাবে। আকর্ষণীয়ভাবে, সুন্নি মুফাসসির ইমাম ফখরুদ্দিন রাজিও তাঁর "তাফসীরে কবীর" গ্রন্থে এই একই তিন-কালের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন।
এই তাফসীরের ভিত্তিতে শিয়া ফিকহে ৫ ওয়াক্ত নামাজকে অস্বীকার করা হয় না — বরং পাঁচ ওয়াক্তই ফরজ ও পৃথকভাবে আদায় করা উত্তম বলে গণ্য হয়। তবে বিনা ওজরেই যোহর-আসর এবং মাগরিব-ইশা টানা আদায় করার (জমা) অনুমতি দেওয়া হয়, ইমামদের বর্ণনার আলোকে। উল্লেখ্য, অধিকাংশ সুন্নি মাযহাবও (হানাফি ব্যতীত) ভ্রমণ বা বৃষ্টির মতো ওজরে এই জমার অনুমতি দেয়।