জিকিরের প্রকারভেদ ও পদ্ধতি
আল্লাহর স্মরণের বিভিন্ন পদ্ধতি — প্রতিটিরই রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও আধ্যাত্মিক উপকার।
আল্লাহর ব্যক্তিগত নাম "আল্লাহ" — যা তাঁর সত্তার একমাত্র পরিচয়। ফজিলত: অন্তরের পাথর গলে যায়, আল্লাহর নূর হৃদয়ে প্রবেশ করে।
প্রতিদিন ১০০০+ বার"লা ইলাহা" (নফি/অস্বীকার) — "ইল্লাল্লাহ" (ইসবাত/স্বীকার)। ফজিলত: সকল গুনাহ ধুয়ে যায়, তাওহিদ পোক্ত হয়।
প্রতিদিন ১০০+ বারআল্লাহর ৯৯টি সুন্দর নাম। বিশেষ নাম: আর-রাহমান, আল-গাফুর, আল-হাই, আল-কাইয়্যুম।
দৈনিক পাঠএকটি দরুদে আল্লাহ ১০ রহমত নাযিল করেন, ১০ গুনাহ মাফ, ১০ মর্যাদা উন্নত।
৩০০+ জুমার দিনদায়েমি জিকিরের ধাপে ধাপে পদ্ধতি ও লতায়েফে সিত্তা
১. মৌখিক জিকির (যিকরে লিসান) — জিহ্বা দিয়ে আল্লাহর নাম নেওয়া, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যায়।
২. হৃদয়ের জিকির (যিকরে কলব) — অন্তরকে আল্লাহর নামে সম্পৃক্ত করা, হৃদয়ের স্পন্দনের সাথে অনুভব করা।
৩. আত্মার জিকির (যিকরে রুহ) — রুহের গভীরে আল্লাহর স্মরণ প্রোথিত হওয়া, ঘুমের মধ্যেও জিকির চলতে থাকা।
৪. সমস্ত সত্তার জিকির (যিকরে কুল্লী) — শরীরের প্রতিটি কোষ আল্লাহর নামে কম্পিত হওয়া। এই স্তরে একজন শায়খের গাইডেন্স অপরিহার্য।
নকশবন্দিয়া তরিকায় ছয়টি "লতিফা" (সূক্ষ্ম কেন্দ্র) চিহ্নিত করা হয় — কলব, রুহ, সির, খফি, আখফা ও নফস। মুরিদকে শেখানো হয় প্রতিটি লতিফায় পর্যায়ক্রমে মনোযোগ দিয়ে জিকির প্রবাহিত করতে — এই পদ্ধতিকে বলা হয় "সুলুক" বা আধ্যাত্মিক সফর।